Hotline:
+88 09678 66 11 22
By: admin Oct 01, 2018 69553 Views
আমরা কি খাচ্ছি? কেমন থাকছি?

খাদ্যের নামে প্রতিদিন আমরা কী খাচ্ছি? যে খাদ্য আমাদের জীবন বাঁচাবে, সুস্থ রাখবে, সুস্থ-সবল ও হাসি-খুশী রাখবে গর্ভবতী-দুগ্ধবতী মায়েদের এবং আমাদের সন্তানদের। অথচ সেই খাদ্যই এখন আমাদের নানা রকম রোগবালাই এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। প্রানঘাতী রোগের চিকিৎসা নিতে ছুটতে হচ্চে চিকিৎসকের কাছে, আশ্রয় হচ্ছে হাসপাতালে, চিকিৎসা খরচ মেটাতে নিঃস্ব হচ্ছে ব্যক্তি-পরিবার।
আপনি জানেন কি? ১৯৯৪ সালে আমেরিকার এনভায়রণমেন্ট প্রটেকশন এজেন্সির প্রতিবেদনে প্রকাশ ফরমালিন ফসুফসু ও গলবিল এলাকায় ক্যান্সার সৃষ্টি করে। ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গলবিল এলাকায় ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য ফরমালিনকে দায়ী করে। কার্বাইড ও ফরমালিনযুক্ত ফল খেয়ে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ড্যামেজেসসহ নানা প্রানঘাতি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। যেকোন সময় থেমে যেতে পারে আমাদেরও জীবন চাকা। আমাদের দেহের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিদিন শাকসবজি, ফলমুলসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ করা খুব জরুরি। কিন্ত আমরা খাবারের নামে প্রতিদিনই যে প্রায় বিষ খেয়ে চলেছি। কারণ শাকসবজি, ফলমুলসহ বিভিন্ন কৃষি খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত হাতবদলের নানা পর্যায়ে মেশানো হচ্ছে হরমোনসহ নানা রকম বিষাক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার। খাদ্যের সঙ্গে এসব আমাদের শরীরে ঢুকছে। অন্যদিকে শাকসবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও প্রিজারভেটিভ ইথারেল, ফল পাকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ইথারেল ও কার্বাইড এবং মাছের পচন ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে অতিমাত্রায় বিষাক্ত ফরমালিন। বাংলাদেশে তিন দশকে ফসল আবাদে রাসায়নিক কীটনাশক ও খাদ্যে বিষাক্ত দ্রব্য ব্যবহার প্রায় ২৫ গুণ এবং ফসল আবাদে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ১২ গুণ বেড়েছে।
অত্যন্ত আশার কথা হলো পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থাসহ অন্যান্য সংস্থার বিভিন্ন অঞ্চলের সংগঠিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের মাধ্যমে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে এদেশে ব্যাপকভাবে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে যা সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য ও পরীক্ষীত। রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন ও সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় বাঁধা হচ্ছে এর বিপনন ব্যবস্থা। স্থানীয় বাজারে কম মূল্য, কৃত্রিম প্রযুক্তিতে (রাসায়নিক সার ও বিষমিশ্রীত) উৎপাদিত ফসলের বাজার দখল। এসব কারণে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদনকারী কৃষকগণ কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। তাই ‘অর্গানিক অনলাইন বাংলাদেশ’ ঐসকল কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের বিপনন ব্যবস্থা পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ সবজি/পণ্যসামগ্রী সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ‘অর্গানিক অনলাইন বাংলাদেশ’ প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রশিক্ষীত কৃষি খামারীদের উৎপাদিত নিরাপদ পণ্যসামগ্রী সরাসরি সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে ফ্রি-ডেলিভারীতে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করছে। কৃত্রিমতা বিবর্জিত ভেজালমূক্ত প্রাকৃতিক খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা আমাদের মৌলিক অধিকার। আর এই মৌলিক অধিকার পূরণই ‘অর্গানিক অনলাইন বাংলাদেশ’এর লক্ষ্য। সু-স্বাস্থ্যবান নাগরিকই পারে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে। আগামী দিনগুলিতে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুস্থ রাখার জন্য এসব মরণঘাতী বিষ প্রয়োগের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের এখনই সময়। আসুন আমরা আজ থেকে ভেজালযুক্ত খাবার পরিহার করে ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলি।

Share this post

Subscribe our Newsletter Get news about latest products & Offer


Copyright © 2019 Organic Online BD All rights reserved

FORGOT PASSWORD ?
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.
0